ভারতের ইউটিউবার ও ইনফ্লুয়েন্সার ধ্রুব রাঠিকে ছেড়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তবে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা এখনো পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
রোববার সকাল ৯টায় দিল্লি ক্যান্টনমেন্টে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তাঁদের হাজির করার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।
দিল্লি পুলিশের সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন নেতাকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভারতের পুরোনো ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭ ও ১৫১ ধারায় তাঁদের আটক রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিক্ষোভের আগে গুরুগ্রামে নিজের বাসা থেকে আটক ধ্রুব রাঠিকে রোববার রাত ৩টার দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
শনিবার ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছিল সিজেপি। এর আগে মুম্বাই থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি উড়োজাহাজে তিন নেতাকে আটক করে পুলিশ।
উড়োজাহাজটি দিল্লিতে অবতরণের কয়েক মিনিটের মধ্যেই দিল্লি পুলিশের একটি দল সেখানে ওঠে। ওই দলে বেশির ভাগই ছিলেন নারী পুলিশ সদস্য। যাত্রীদের সামনেই তিন নেতাকে আটক করা হয়। এ সময় কয়েকজন যাত্রী মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের সঙ্গে কথা বলার সময় অভিজিৎ দীপকেকে উত্তেজিত অবস্থায় দেখা যায়। তিনি পুলিশকে বলেন, গ্রেপ্তার হতেই দিল্লিতে এসেছেন তিনি।
সিজেপির আইনবিষয়ক দলের প্রধান রত্না সিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, তিন নেতাকে রোববার সকাল ৯টায় দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানায় বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হবে। দলের অন্য আইনজীবীদের সঙ্গে তিনিও সেখানে উপস্থিত থাকবেন।
শীর্ষ নেতারা আটক থাকলেও রোববার সকাল ১০টায় দিল্লির যন্তর মন্তরে নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সিজেপি। ভোটার তালিকায় কারসাজির অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে দলটি। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়ার কথা জানিয়ে দিল্লি পুলিশ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। সিজেপির সঙ্গে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনও (আইসা) বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।
শনিবার বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লিজুড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষকে আটক করে পুলিশ। তাঁদের অধিকাংশকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া দিল্লিতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ২০ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। যন্তর মন্তরের আশপাশে দায়িত্ব পালন করেন প্রায় ৬ হাজার ৫০০ নিরাপত্তাকর্মী।
নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ও গণপরিবহন ব্যাহত হয়। কয়েকটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয় এবং জনপথ-কর্তব্যপথ এলাকার চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করা হয়। শনিবার রাতে বন্ধ থাকা মেট্রো স্টেশনগুলোর প্রবেশ ও বের হওয়ার ফটক আবার খুলে দেওয়া হয়।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক